বাখ এবং বেটোফেন-ই বারিমান এর পয়গম্বর

ইঙ্গমার বারিমান দেখা শুরু করেছিলাম “পারসোনা” দিয়ে। প্রথম বার দেখার পর কিছু বুঝি নি এটা সত্য। কিন্তু দৃশ্যগুলো মনে এতোটাই গেঁথে গিয়েছিল যে আজও ভুলতে পারি নি। এরপর অবশ্য অনেক বার দেখা হয়েছে পারসোনা। এরই মধ্যে বারিমান এর আরও ৬ টি সিনেমা দেখেছি। সত্যি বলতে সবগুলোই হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করেছে। বারিমান এর সাদা-কালে পর্দায় বিশাল ক্লোজ-আপ গুলো কোথায় যেন নিয়ে যায়। “দ্য সাইলেন্স” সিনেমাতে প্রথম বারের মত আবহ সঙ্গীতের দিকে মনযোগ দিয়েছিলাম।

বাখ বেটোফেন বারিমান
(আরও…)

আমাদেউস (১৯৮৪)

যেভাবে একটি অপেরা শুরু হয়। পর্দা উঠুক আর না উঠুক, শুরু হয় ওভার্চার। মিলশ ফরমান এর “আমাদেউস” (১৯৮৪) এর শুরুটা ঠিক তেমনই। পর্দা ওঠার আগেই শুরু হয় ওভার্চার ধর্মী গাঢ় সুর। সুরের তালেই পর্দা ওঠে, আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে উনবিংশ শতকের ভিয়েনা-র একটি শীতল রাত, যেমন রাতে ঘোড়ারা নিঃশ্বাস ফেললে ধোঁয়াশার খেলা শুরু হয়। এই শীর্ণ রাতের নীরবতা ভেঙে কোত্থেকে চিৎকার ছুটে আসে-
মোৎজার্ট…
আমি ভাবি, আহত ঈশ্বর বুঝি ডাকছেন মোৎজার্টকে। পরের মৃয়মান চিৎকারেই প্রথমবারের মত টের পাই, ইনি ঈশ্বর নন, পৃথিবীরই কেউ, কে তা জানি না। মোৎজার্ট নাম ধরে দু’বার ডাকার পর সে কাতর স্বরে বলে,

Forgive your assassin! I confess, I killed you! Yes, I killed you, Mozart. Mozart, mercy!Forgive your assassin! Forgive me, Mozart!

যিনি এই কথাগুলো বলেছেন তার ঘরের দরজা বন্ধ। এমন দুজন খাবার হাতে দরজার সামনে দাঁড়ায় যাদের নিয়ে ফরমান ব্যঙ্গ করতে চান। এদের মুখেই আমরা প্রথমবারের মত সদ্য কনফেশন করা ব্যক্তিটির নাম জানতে পারি: সালিয়েরি। ওরা তাকে সিনোরি সালিয়েরি বলে ডাকে।

1
(আরও…)

Published in:  on অক্টোবর 17, 2009 at 5:22 pm Leave a Comment
Tags:

সংস্কৃতি কথা

[জীবনে প্রথম মুক্তভাবে চিন্তা করতে শিখেছিলাম এই প্রবন্ধটি পড়ে। ভাবলাম টাইপ করে ব্লগে তুলে রাখি।]


সংস্কৃতি কথা
লেখক – মোতাহের হোসেন চৌধুরী


ধর্ম্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত, মার্জ্জিত লোকের ধর্ম। কালচার মানে উন্নততর জীবন সম্বন্ধে চেতনা-সৌন্দর্য্য, আনন্দ ও প্রেম সম্বন্ধে অবহিতি। সাধারণ লোকেরা ধর্ম্মের মারফতেই তা পেয়ে থাকে। তাই তাদের ধর্ম্ম থেকে বঞ্চিত করা আর কাল্‌চার থেকে বঞ্চিত করা এক কথা।

ধর্ম্ম মানে জীবনের নিয়ন্ত্রণ। মার্জ্জিত আলোকপ্রাপ্তরা কাল্‌চারের মারফতেই নিজেদের নিয়ন্ত্রিত করে। বাইরের আদেশে নয়, ভেতরের সূক্ষ্মচেতনাই তাদের চালক, তাই তাদের জন্য ধর্ম্মের ততটা দরকার হয় না। বরং তাদের উপর ধর্ম্ম তথা বাইরের নীতি চাপাতে গেলে ক্ষতি হয়। কেননা তাতে তাদের সূক্ষ্ম চেতনাটি নষ্ট হয়ে যায়, আর সূক্ষ্মচেতনার অপর নাম আত্মা।

সাহিত্য, শিল্প, সঙ্গীত কাল্‌চারের উদ্দেশ্য নয়- উপায়। উদ্দেশ্য, নিজের ভেতরে একটা ঈশ্বর বা আল্লা সৃষ্টি করা। যে তা করতে পেরেছে সে-ই কালচার্ড অভিধা পেতে পারে, অপরে নয়। বাইরের ধর্ম্মকে যারা গ্রহণ করে তারা আল্লাকে জীবনপ্রেরণা রূপে পায় না, ঠোঁটের বুলি রূপে পায়। তাই শ’র উক্তিঃ Beware of the man whose God is in the skies- আল্লা যার আকাশে তার সম্বন্ধে সাবধান। কেননা, তার দ্বারা যে কোন অন্যায় ও নিষ্ঠুর কাজ হতে পারে। আল্লাকে সে স্মরণ করে ইহলোকে মজাসে জীবন যাপন করার জন্য আর পরকালে দোজখের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে, অথবা স্বর্গে একটা প্রথম শ্রেণীর সিট্‌ রিজার্ভ করার আগ্রহে- অন্য কোন মহৎ উদ্দেশ্যে নয়। ইহলোকে ও পরকালে সর্ব্বত্রই একটা ইতর লোভ। (আরও…)

Published in:  on অক্টোবর 16, 2009 at 6:14 pm মন্তব্য (2)
Tags:

পিংক ফ্লয়েড: লাইভ অ্যাট পম্পেই

পৃথিবীকে আমি খুব বীভৎস, কুৎসিত এবং ভয়ংকর একটা জায়গা হিসেবে দেখি। প্রকৃতি আমাকে মুগ্ধ করে না, তবে মাঝেমাঝে ভীত করে তোলে। এজন্যই হয়তো একটি সুন্দর সকালের চেয়ে আমাকে আগ্নয়েগিরির ভয়ালদর্শন অগ্নিস্রোত বেশি টানে। আমি বুঝে গেছি, পৃথিবীতে নির্মল সুন্দর বলতে কিছু নেই। সকালের উদীয়মান আলোর সাথে আমি ইঙ্গমার বারিমান এর মতই কষ্টকর সেক্স এর মিল খুঁজে পাই। এই পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর, যা কিছু নির্মল তার সবই মানুষের সৃষ্টি। প্রকৃতিতে এর কোনটাই ছিল না। মানুষের এই সৃষ্টির নাম আর্ট। বাংলা “শিল্প” শব্দটি আমার কখনোই ব্যবহার করতে ইচ্ছে করে না। কারণ বাংলায় ইন্ডাস্ট্রি আর আর্ট এই দুই শব্দের প্রতিশব্দই শিল্প। এই বিশ্রী সাযুজ্য কোন বাঙালি কবে তৈরি করেছিল তাকে একবার সামনে পেতে ইচ্ছে করে। কষে একটা ঝাড়ি লাগাতাম। ফাইজলামির আর জায়গা পায় না। কোথায় ইন্ডাস্ট্রি আর কোথায় আর্ট। এই দুই বিপরীতমুখী ধারার প্রতিশব্দ এক হয় কী করে?

1

প্রকৃতিতে যদি সুন্দর কিছু থেকে থাকে তবে সেটা মানুষ সুন্দর বলেছে বলেই সুন্দর হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের চেতনার রঙে যেমন পান্না রং পেয়েছিল ঠিক তেমনই প্রকৃতির প্রতিটি কুৎসিত জিনিস আমাদের চেতনার রঙে রঞ্জিত হয়। এই রং উঠিয়ে নিলে বেরিয়ে আসবে কাটা কাটা চাকাওয়ালা ট্রাকের ঘর্ষণে জর্জরিত একটা মাটির সড়ক। সৌন্দর্য্য যা তা এই মানুষেরই, রং যা তা কেবল আমাদেরই। এই ভয়াবহ রকমের শূন্য, অসীম, বারন মহাবিশ্বে সৌন্দর্য্য সৃষ্টির মাধ্যমেই আমরা টিকে আছি। এটা না থাকলে আমাদের অস্তিত্ব থাকতো না। (আরও…)

Published in:  on অক্টোবর 11, 2009 at 7:55 pm Leave a Comment

স্লামডগ মিলিওনার একটা ওরিয়েন্টালিস্ট আবর্জনা

কোন এককালে আমার অস্কারের প্রতি ভক্তি ছিল। “অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড”- নামটা শুনলেই কেমন জানি শিহরণ জাগতো। আমার এসব কথার গভীরতা অবশ্য অনেক কম হবে। কারণ আমি সিনেমা দেখি মাত্র ২ বছর ধরে। জীবনে প্রথম সিনেমা দেখেছি ভার্সিটিতে এসে, তাও সেকেন্ড ইয়ার এ। একটু ডজ মারলাম অবশ্য। ক্যাডেট কলেজে ক্লাস সেভেনে থাকতে দুইটা হিন্দি সিনেমা দেখেছিলাম। তখন প্রায় প্রতি সপ্তাহে কলেজে ভিসিআর না ভিসিডি কিসব শো থাকতো। সংখ্যাগরিষ্ঠের রুচি অনুযায়ী যথারীতি চলতি হিন্দি সিনেমা আনা হতো। আর পোলাপানের কি জোশ। বস্তাপঁচা সেই সব সিনেমা দেখে সে কি উল্লাস। কমার্শিয়াল হিন্দি সিনেমার স্টাইলটাই আমার ভাল লাগে না। যত্তোসব…

আমার ঘেন্নার লিস্টে এখন দ্বিতীয় জায়গা দখল করে নিয়েছে অস্কার। আগে কোন সিনেমা অস্কার পেয়েছে, কোনটা পায় নি এসব নিয়ে রীতিমত ইমোশনাল বিশ্লেষণ চলতো। মার্টিন স্করসেজি কে কেন আগে অস্কার দেয়া হলো না এই নিয়ে মন খারাপ করতাম। তার ডিপার্টেড এই কেন শেষ পর্যন্ত অষ্কার পেল এইসব ভেবে মানুষের হাপিত্যেশ উপভোগ করতাম। ডেভিড লিঞ্চ অস্কার পায় নি বলে দুঃখ করতাম। অথচ আজকে স্ট্যানলি কুবরিক ডিরেক্টর হিসেবে অস্কার পায় নি বলে অ্যাকাডেমি-কে জানাই কৃতজ্ঞতা। অস্কার দিয়ে কুবরিক এর মত এক ঈশ্বরকে মর্ত্যে নামিয়ে আনাটা কি ঠিক হতো?

গত বছর এইটা কি সিনেমাকে অস্কার দিল?

আমি জাস্ট আকাশ থেকে পড়ছি।

স্লামডগ মিলিওনার

একটা কুরুচীপূর্ণ সিনেমা। (আরও…)

জীবন নাকি জটিল!

আমি, আমার অস্তিত্ব
খুব অস্থির সময় পার করছি আমরা
ভাল লাগা আর না লাগার সীমারেখা ধূসর হয়ে আসছে
ধূসর হয়ে যাচ্ছে কালা সমাজের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে।

আধুনিক বা উত্তরাধুনিক
এই সমাজের আবর্জনা দেখে উত্তেজিত হয়ে স্ট্যানলি কুবরিক
আমাদের গালি শুনিয়েছিলেন,
ইউ আর সো আগলি দ্যাট ইউ ক্যান বি আ মডার্ন আর্ট মাস্টারপিস!

কী করবো এখন?
কিচ্ছুই তো করার নাই…
জ্যাক রিপারের লাশ পঁচে তা থেকে এখন বাসি ইঁদুরের মত গন্ধ বেরোয়
অথচ বমি আসে
আজকালকার সিনেমা দেখলে—-
অস্তিত্ব আঘাত পায়, ইন্দ্রিয় আহত হয়
আর বিশ্বাসঘাতক মুখটা খুঁজে পায় না ভাষা!
কোন গাধার বাচ্চা ইনভেন্ট করছিল এই ভাষা? (আরও…)

Published in:  on অক্টোবর 8, 2009 at 9:42 pm Leave a Comment
Tags:

শেষ হয়ে গেল টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসব

টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল যে এত সমৃদ্ধ আগে ভাবতেও পারিনি। স্বয়ং আম্রিকার কোন চলচ্চিত্র উৎসবও এত গমগম করে না। অস্কার আর গোল্ডেন গ্লোব দিয়ে তারা চলচ্চিত্র উৎসবকে ছেয়ে ফেলেছে। সেখানে উৎসব মানেই পুরস্কার। পুরস্কার ছাড়া যেন উৎসব হয় না, কিংবা উৎসব থাকলেই যেন সেখানে পুরস্কারের সমারোহ থাকতে হবে।

মহাবিশ্বের ইতিহাস নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করতে গিয়ে টরন্টোর ভাল ফিচার করতে পারছি না। তারপরও কয়েকটা বিষয় তুলে না আনলে নয়।

1
(আরও…)

মুর্নাউ-এর এক্সপ্রেশনিস্ট ‘ফাউস্ট’ (১৯২৬)

ফ্রিডরিশ ভিলহেল্ম মুর্নাউ এর “ফাউস্ট” (১৯২৬) কে বলা যায় আদিম যুগের ব্লকবাস্টার যদিও সে সময় ব্লকবাস্টারের থিমটা ছিল না। অনেক আয় করেছে বলে ব্লকবাস্টার বলছি না বরং অনেক আয় করার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে বলেই ব্লকবাস্টার বলছি। আয়ের দিক দিয়ে ফাউস্ট ব্যর্থ হয় নি। জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশেই বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই জনপ্রিয়তার মূলে ছিল তিনটি বিষয়: বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত অভিনেতাদের উপস্থিতি, অভাবনীয় স্পেশাল ইফেক্ট এবং প্রতিটি মূহূর্তের সাথে আটকে যাওয়ার মত আবহ সঙ্গীত। আসলে তখনকার জার্মানিতে এক নম্বর চলচ্চিত্র স্টুডিও “UFA” (Universum Film AG) মাত্র দুইটা সিনেমার ক্ষেত্রে এমন ভেল্কি দেখিয়েছিল। ভেল্কি মানে পকেট উজার করে খরচ করা। প্রযোজক এরিখ পোমার দুইটা সিনেমার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ করেছেন, যতটা খরচের কথা কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে ভাবাও সম্ভব না। সিনেমা দুটি হল মুর্নাউ-এর “ফাউস্ট” এবং ফ্রিৎস লাং এর “মেট্রোপলিস” (১৯২৭)। দুইটা সিনেমাতেই কালোত্তীর্ণ স্পেশাল ইফেক্ট এর প্রয়োগ দেখা যায়। কালোত্তীর্ণ বলছি এই জন্য যে, সেই সময়কার প্রযুক্তি দিয়ে কোন যুগেই এমন স্পেশাল ইফেক্ট দেয়া যেতো বলে মনে হয় না। কারণ জার্মানিতে তখন অসাধারণ মেধাবী পরিচালক এবং অঢেল পয়সাওয়ালা প্রযোজকের সার্থক সমন্বয় ঘটেছিল, যেটা আজকের হলিউড ব্লকবাস্টার-এর যুগেও দেখা যায় না।

মুর্নাউ এর “নসফেরাতু” (১৯২২) এতই বিখ্যাত হয়েছে যে এর চাপে হারিয়ে গেছে ফাউস্ট। ফাউস্ট নিয়ে চলচ্চিত্রমোদীদের মধ্যে খুব একটা আলোচনা হয় না। এটা ঠিক যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে নসফেরাতু অনেক এগিয়ে থাকবে। মুর্নাউ অভিনেতাদের দিয়ে বাস্তবিক অভিনয় করান না, তার লক্ষ্য থাকে টেকনিক্যাল অভিনয় বা যাকে বলা যায় ঢং-সর্বস্ব অভিনয়। মুর্নাউ এর সিনেমাতে অভিনয় মানেই স্টাইল। ইয়াসুজিরো ওজু বা অভিনেতা থেকে পরিচালক হয়েছেন এমন সবার সিনেমাতে অভিনয়ের যে স্বাভাবিকত্ব দেখা যায় মুর্নাউ এর সিনেমাতে তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সমালোচক বা দর্শকরা এই অভিনয়-কে মঞ্চের অভিনয়, মান্ধাত্মা আমলের ঢং বা গতানুগতিক বলে সাব্যস্ত করতে পারেন; কিন্তু এটা অস্বীকার করতে পারবেন না যে, অভিনয়ের এই স্টাইল ই মুর্নাউ এর সিনেমাগুলোকে জীবন্ত করে তোলে। কারণ মুর্নাউ সিনেমার জন্য স্টাইল-নির্ভর গল্পই পছন্দ করেন। নসফেরাতুর ভীতি বা ফাউস্ট এর অতিপ্রকৃতি স্টাইল ছাড়া ফুটিয়ে তোলার অন্য কোন উপায় নেই। (আরও…)

আনন্দবাজার পত্রিকায় তারেক মাসুদের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে

তারেক মাসুদ

তারেক মাসুদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত তারেক মাসুদের সাক্ষাৎকারটা পড়লাম। তার অনেক চিন্তাভাবনাই ভাল লাগে নি। ধর্ম এবং ইসলাম সম্পর্কে আমার চিন্তাভাবনা মোটেই তার মত নয়। দেশের অনেক অনেক কওমি মাদ্রাসায় যে আরবি মুখস্থ করানো ছাড়া আর কিছুই করানো হয় না এটা তিনি বোধহয় এড়িয়ে গেছেন। এমনকি এক জায়গায় মনে হল তিনি আলিয়া মাদ্রাসার ওপরই বিষোদগার করেছেন। জামাত-শিবির বা ইসলামী রাজনীতির আখড়া যে মূলত আলিয়া মাদ্রাসাগুলো এতে সন্দেহ নেই। এদিক দিয়ে তিনি ঠিক কথাই বলেছেন। কিন্তু মাদ্রাসা ব্যবস্থার সংস্কারের কথা বলে যেভাবে কওমি মাদ্রাসার পক্ষ নিলেন তা ভাল লাগলো না।

তাছাড়া জঙ্গী ট্রেনিং ও মৌলবাদী শিক্ষা তো আমার মনে হয় কওমি মাদ্রাসাগুলোতেই বেশি হয়। আলিয়াগুলো না হয় রাজনীতি শিখিয়েই সারা। কিন্তু অনেক কওমি মাদ্রাসা তো সরাসরি অস্ত্র হাতে নেমে পড়ার শিক্ষা দেয়। আমাদের গ্রামের বাড়ি ‘ভালুকা’ (ময়মনসিংহ) তে এমন এক কওমি মাদ্রাসার খবর আমি নিজে জানতাম। আমার মনে হয় গোঁড়ামি আলিয়ার তুলনায় কওমী মাদ্রাসাতেই বেশি। শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন অর্থে ধর্মের সাংস্কৃতিক দিকটা শেখানোর প্রয়োজন তা একেবারেই বুঝলাম না। আমরা চাচ্ছি শিক্ষাব্যবস্থা হোক ধর্মমুক্ত। আর তিনি বলছেন ধর্মের অনুশাসনের পাশাপাশি সংস্কৃতির দিকটাও শেখাতে। বলি, ধর্মীয় পাঠ্যবই তিনি তো রচনা করবেন না, রচনা করবেন এদেশের গোঁড়া আলেমরাই।

তবে সহিষ্ণুতা বিষয়ে তার অনেক কথার সাথে একমত। সার্বিকভাবে সাক্ষাৎকারটা ভালো লাগল না। কিন্তু তারেক মাসুদের চিন্তাধারার প্রকাশ হিসেবে এটা কালেকশনে রাখার দরকার আছে।
যাহোক আনন্দবাজার-এর সাক্ষাৎকারটা এখানে তুলে দিলাম। কারণ এমনিতে ফন্ট সমস্যা থাকায় আনন্দবাজারের কোন লেখা ইউনিকোডে দেখা যায় না। (আরও…)

তারেক মাসুদের সাক্ষাৎকার

“মাটির ময়না” আর “অন্তর্যাত্রা” দেখে তারেক মাসুদকে খুব ভাল লেগে গিয়েছিল। সম্প্রতি নেট ঘেটে তার একটা সাক্ষাৎকার পেলাম। মাটির ময়নার ডিভিডি কমেন্টারিতে তার চিন্তাভাবনা আমাকে বেশ স্পর্শ করেছিল, বিশেষ করে ঐশ্বর্য্যের চেতনাটা। কিন্তু ইশতিয়াক জিকো অন্য কথা বলছেন। জিকোর মতে তারেক মাসুদ ধর্ম টিকিয়ে রাখার ধ্বজাধারীদেরই একজন, ফরহাদ মজহার ঘরানার লোক আর কি! আনন্দ বাজারের সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি নাকি মাদ্রাসা শিক্ষা টিকিয়ে রাখার কথা বলেছেন। আমি মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষে নই, মরমীবাদের মোড়কে ধর্মবে টিকিয়ে রাখারও পক্ষে নই। তারপরও সিনেমার খাতিরে তারেক মাসুদকে বেশ ভাল লাগে।

তার সাক্ষাৎকারটি পেলাম বাংলায় চলচ্চিত্র বিষয়ক ব্লগ টকিজ-এ। কপিরাইট এর বিষয় থাকায় সাক্ষাৎকার পুরোটা এখানে আনছি না। প্রথম অংশটা জুড়ে দিয়ে মূল লেখার লিংক দিয়ে দিচ্ছি। না, প্রথম অংশ না দিয়ে প্রথম কয়েকটা প্রশ্ন জুড়ে দেই:

১। সিনেমায় আপনার শুরুর দিকটা কেমন ছিল?
২। তখনই কি আহমদ ছফার সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা?
৩। কতো সালে আদমসুরত শুরু করেছিলেন?
৪। কিন্তু ব্যাপারটা তো ঘটে গেছে। আপনি একটি না, বেশ কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মুভি বানিয়েছেন।
৫। আমার মনে হয়েছে, এই প্রথম আপনি পুরোপুরি ফিচার ফিল্মের দিকে গেলেন। মাটির ময়না অটোবায়োগ্রাফিকাল বলে অনেকটা ডকুমেন্টারি। এর আগের মুভিগুলোও ডকুমেন্টারি। আদমসুরত থেকে মাটির ময়না পর্যন্ত আপনার কি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলিং হয়েছিল?

ইত্যাদি ইত্যাদি…. মূল লেখার লিংক এইখানে:
- An Interview with Bangladeshi Film maker Tareque Masud (আরও…)